অপু তারপর থেকে অনেক চিন্তা শুরু কর। এ+ কি হবে এস প্রচার! অপু নিজেকে মোটেও সান্ত্বনা দিতে পারছে না। শিক্ষকরা অনেক ভালো লাগাতে আপনি, পরীক্ষায় এ+ চেষ্টা করতে হবে। মা-বাবাও অপুকে অনেক ভালো লাগাতে। তাই কি হয়েছে? দেখতে হবে।
ছেলে-মাতার অনেক আদরের ছেলে ছেলে অপু। তাকে নিয়ে বাবা-মাতার অনেক বড় স্বপ্ন- আমার ছেলেকে বিসিএস ক্যাডার বাবো। তাই অপুর লেখাপড়ার জন্য টাকা তার লেখার মূল্য দিতে শুরু করতে হবে।
পিতা-মাতা ও শিক্ষকদের কথা অনেক আনন্দ শুরু কর অপু। এ+ জন্য লেখাপড়ায় মন দিয়ে চেষ্টা শুরু করুন।
কিন্তু এমন সময় তার নাম তার বড় ভাই 'রাব্বি' সেলিব্রেটি ফেসবুক। মানুষ তাকে ফেসবুকে বলে ডাকে। রাবি অপুকে ফেসবুকে আইডি প্রচার করতে চাই। কিন্তু অপু রাজি না। কারণ অপু ফেসবুকের অক্ষরও বোঝে না। ফেসবুক জগৎপুর নূনতম কোন জ্ঞান নেই।
রাব্বি কোনো তাকে উল্টাপাল্টাভাবে রাজি কর। আব্বু আম্মুকে অনেক রিকুয়েস্ট করে একটা অ্যান্ড্রয়েড ফোন অডিও নেটওয়ার্ক নিলো এবং রাব্বির মাধ্যমে একটা আইডি ভিডিও নিলো। তারিখে আইডি শুভ রাবি প্রমোট করি তার বন্ধু ফেসবুকে ফেসবুকে মেঞ্জার, চ্যাট, কমেন্ট, লাইক, ট্যাগ, ছবি আপলোড, কিছু ভালোভাবে আপনি নেশা ধরিয়ে অপুকে ব্লগার।
ও হ্যাঁ তার নতুন আইডির নাম দিল 'ব্লগ অপু' এইগ্রামে সে বিষয়ে অনেক ভালোবাসি ফেসবুকের ভার্চুয়াল প্রশিক্ষণ, লেখার মাধ্যমে অনেক সাড়া দিতে পারে। টাদিন মোবাইলে ব্যস্ত অপু।
মানি খরচ, অপু অপু অকুদিন মোবাইলে কী পড়িস? বই পড়িস না কেন?
– মোবাইলে আমি বই পড়ি। ওখানে সব পড়া আছে।
– ভাল বাপ ভাল করে পড়িস। তোকে এ+ পেতে হবে। তোর বা মুখ উজ্জ্বল করতে হবে। সব আশা পূরণ করতে হবে।
– আচ্ছা মা তুমি যাও। এখন ব্যস্ত আছি। শুধু বকে। বোঝে না কিছু না।
- রাতে বাবা দ্রুত ঘুমিয়ে পড়িস।
এস স্পোর্টিং কেন্দ্র আর মাত্র ৪৫ দিন বাকি আছে। সেই অনেক কম সময় আছে তার হাতে। অপুর এ+ পেতে এখনো অনেক পড়া বাকি আছে। কিন্তু সেগুলি পড়ুন৷ তার টার্গেট ফেসবুক সবার কাছে ফেমাস হতে হবে।
কিন্তু 'ব্লাগ অপু' ফেসবুকে এত ফেমাস হয়ে গেল যে রাব্বির থেকে দুগুণ লাইক শুরু করলো। পাতাদিন নিয়ে ফেসবুকেই মেতে থাকে। রাব্বিকে আর গোনার টাইম নেই অপুর হাতে। মাত্র ২৫ থেকে ৩০ মাত্র ভিতরে ৪০০০ বন্ধু সম্পূর্ণ হয়েছে 'ব্ল অগগ' আইডিতে।
এটাস এর এখনই ১৫০ লাইক পেতে লাগলো। অাপনার ফেসবুকে অনেক হ্যাপি কমিউনিটি। চ্যাটে প্রায় ৬০০-৭০০ ফ্রেন্ড অ্যাক্টিভ থাকে। রাতদিন রাতে ফেসবুক বন্ধু-বান্ধবদের সাথে চ্যাটে মেতে মিটিং অপু। হাই হ্যালো এসমস রিপ্লাই দিতে অস্থির হচ্ছে। কারণ, সে এখন ফেসবুকের বড় মাপের একজন ব্লগার ও লেখকও বটে। আইডিতে কোডটাস ২ হাজারের বেশি লাইক কমেন্ট শুরু করুন। অপুর হ্যাপিনেস ফেসবুকিং। মনের দিক থেকে অপু খুব খেতে দিন।
অপুদান হাতে ভাত খায়, আর বাম হাতে ফেসবুক চালায়। খবরদিন ফোন হাতে থাকে। যেখানে যায় ফোন হাতে নিয়ে যায়। এমনকি ল্যানেত্রিও তাও ফোন নিয়ে যায়। বের হয় অনেক তাদের মধ্যে। বাথরুমে কেউ নক না উদঘাটন সে বের হতেই চায় না।
মা বলেন, অপু অপু অপারদিন মোবাইলে কি গুঁতাগুঁতি করি বাবা?
–কথা না তো মা- অপু উত্তর দিলো।
পরীক্ষার আর মাত্র ১৫ দিন বাকি আছে। কিন্তু তার টার্গেট পরীক্ষার আগেই। সে ফেসবুকে ৫০০০ ফ্রেন্ড ফুল করবে।
৪৮০০ ফ্রেন্ড ফুল হলো। আর মাত্র পরীক্ষার ৫ দিন বাকি আছে। ভাবলো পরীক্ষার পর সে বাকি ২০০ ফ্রেন্ড বাড়াবে। কিন্তু অপুর বই পড়তে মন বসে না। বই সামনে মেলিয়ে সে বইয়ের ওপর ফোন রেখে ফেসবুক চাপাচাপি করে অনেক মজা পায়। ফেসবুকে বন্ধুদের কাউকে সে কেয়ার করে না। সে সেলিব্রেটি ফেসবুকে ২৫০০-২৮০০ লাইক পেতে শুরু করলো। আর দিনে দিনে দাম্ভিক হয়ে উঠলো।
আর মাত্র পরীক্ষার দুই দিন বাকি। আগামী পরশুদিন তার ফিজিক্স পরীক্ষা। কিন্তু লেখাপড়াই অনেক গ্যাপ হয়ে গেছে ফেসবুকে সময় দেয়ার কারণে। ভাবছে এবার একটু পড়ায় মন দিতে হবে।
অপু পড়ার টেবিলে বসলো। একটু করে পড়ে আর পোস্টে কত লাইক হলো সেটা দেখে। আর একটু পড়ে আর কোন বন্ধু sms দিছে কী লিখেছে সেটা দেখে। আবার দেখে চ্যাটে কত জন বন্ধু অ্যাক্টিভ আছে। এভাবে সে পড়াশুনায় উদাসীন হয়ে গেল।
আগামীকাল অপুর পরীক্ষা। আজ রাত ১১ পর্যন্ত বই পড়ে বাকি সময় ফেসবুক চালায়। কিন্তু ফেসবুক লগ আউট হয়ে যাচ্ছে বারবার অটোমেটিক। রাগ করে আর চালালো না রাত আড়াইটায় একটা পোস্ট দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে অপু। ইতোমধ্যে তার ৫০০০ ফ্রেন্ড পূর্ণ হয়ে ফ্রেন্ড লিস্ট পরিপূর্ণ হয়ে গেল।
পরীক্ষার দিন সকালে উঠে কিছুক্ষণ বই পড়ে তারপর ফেসবুক লগইন করে। রাতে একটা পোস্ট দিয়েছিল কত লাইক হয়েছে সেটা দেখার কৌতূহল শুরু হলো। ফেসবুকে লগিন করে ঢোকার চেষ্টা করেও পারছে না। কারণ খুব দ্রুত ফ্রেন্ড সংখ্যা বাড়ানোর দায়ে অ্যাকশন ব্লকে ‘ব্লগার অপু’ আইডি কে মার্ক জুকার বার্গ ডিজেবল করে দিয়েছে।
“Your account has disabled”
এই লেখা দেখে অপুর শরীর আগুন হয়ে গেল। তার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেল। আকাশ ভেঙে তার মাথায় পড়লো। চারিদিকে অন্ধকার হয়ে এলো। দু’চোখ অশ্রুজলে ভিজে দুনিয়াটা ঝাপসা হয়ে গেলো।
অপু তার বড় ভাই রাব্বিকে দেখালো, ঘটনা খুলে বললো। রাব্বি জানালো অতিরিক্ত ফ্রেন্ড দ্রুত বাড়ানোর কারণে আইডি action block খেয়ে ডিজেবল হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে।
খানিকটা প্রতিবাদ করে পানির সামনে আকাশের দিকে রাব্বির গলা ধরে শুরু করলো অপু। স্বপ্ন আইডি চ্যানেল বলে সান্ত্বনা দিল রাব্বি (অপুকে)। কিন্তু অপু নিজেকে সান্ত্বনা দিতে পারছে না এত উন্নয়ন 'ব্লগ অপু' আইডি কিভাবে ডিজেবল হবে? এমন প্রকাশ আইডি পাব?
আজ আবার অপুর পরীক্ষা, মন খারাপ না করতে পরীক্ষা দিতে গেল। প্রশ্নোত্তর কোনটি দিয়ে বাড়ি খুঁজে এলো।
মা জিজ্ঞেস করা- কী হয়েছে অপুর তো পরীক্ষা? মন খারাপ কেন? কী হয়েছে তোর?
অপু তো, কইকুই তো মা। আমি চেষ্টা করছি তাই এমন পরীক্ষা।
- ঠিক আছে বাবা বন্ধু হয়ে এসো দ্রুতই হবে। আমরা তোমার অপেক্ষায় থাকতে না পারব।
– আমি এখন খাবো না ঘুমাবো।
সব পরীক্ষা দিয়ে শেষ কর।
দুই মাস পরে-
অপুর রেজাল্ট বের করা। অপুর বাবা মা খুব আনন্দিত ছেলের এ+ হবে। কিন্তু কোনোভাবেই অপুর রেজাল্ট দেখা যাচ্ছে না। বাজার রেজাল্ট দেখতে পেল অপু। প্রথম দেখুন সেই ফিজিক্স বিষয়ে ফেল। বিশ্বাস করতে পারছে না অপু! দুনিয়াটা ঝাপসা হয়ে গেল তার অন্ধকার।
অজ্ঞান মাটি লুতে পড়লো অপু। অপুর মা-বাবা সব বিষয়ে আলোচনা শুরু করা এবং কান্নাকে খুঁজে বের করা। কী কী অপুর!! কিভাবে এমন হয়েছে?
ফিরে অকারণে শুনলো তার বাবা হার্টফেল করে বিছানায় পড়ে আছে, মাকে দেখলো নির্ধারক বসাভম্ব বাক হয়ে গেছে। বাবা-মা অনেক দাওয়া ছেড়ে দিল এবং অপুর কথা বন্ধ করে দিল। পিতা-মাতা শিক্ষক ও পাড়া প্রতিবেশদের কাছে মুখ দেখাতে না ক্ষমায় বাড়ি ছেড়ে চলে গেল অপু৷
পাওয়া আদরের ছেলে সন্তানকে-মাতা সর্ব্বস্বান্ত ও পাগল হতে পারে।
আজ ৫ মাস হয়েছে কিন্তু অপু ফিরে আসেনি। ভাত অপেক্ষার সময় দেখাতে হবে। অংশ-মাতা মাড চেয়ে ছেলে কখন।
.jpeg)
Comments
Post a Comment